ব্রেকিং :এবার বেরিয়ে আসলো আসল রহস্য ,যে কারণে থমকে আছে জাতীয় ঐক্য!

প্রায় দুমাস ধরে যুক্তফ্রন্ট, ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ঐক্য উদ্যোগ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। নেতারা দু’মাস ধরেই বলছেন, শিগগীরই ঐক্য হবে। কিন্তু নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত ঐক্য পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারছে না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নানা শর্ত, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সন্দেহে ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ থমকে যাচ্ছে। ঐক্য প্রচেষ্টার অন্যতম উদ্যোক্তা ড: জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক হবার পর নতুন সমস্যা তৈরী হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন,

‘বৃহত্তর ঐক্য করতে গেলে এরকম ঘটনা হতেই পারে।’ঐক্য প্রচেষ্টার একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুলত: ৭টি কারণে ঐক্য প্রচেষ্টা চূড়ান্ত রূপ নিতে পারছে না। এই ৭টি কারণ হলো:

১. বিএনপি জামাত সম্পর্ক: যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিএনপিকে জামাত ত্যাগের শর্ত দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি জামাতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায় নি। বিএনপি জামাতকে নিয়ে ২০ দল রেখে আবার বৃহত্তর ঐক্যে যোগ দিতে চাইছে। এটা অনেকেই মানতে রাজী না।

২. তারেকের নেতৃত্ব: প্রকাশ্যে না বললেও, তারেক জিয়ার ব্যাপারে অস্বস্তির কথা বলছেন যুক্তফ্রন্ট এবং জাতয়ি ঐক্যের অনেক নেতাই। বিশেষ করে, ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের পর বিএনপিতে তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যার দায়ে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি যদি একটি দলের নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে তার সঙ্গে ঐক্য কিভাবে সম্ভব? এই প্রশ্ন উঠেছে।

৩. মাহির ভূমিকা: বৃহত্তর ঐক্যের পথে একটি বড় বাধা বলেই মনে করছেন নেতারা। এমনকি যুক্তপ্রন্টের অনেক নেতাও মনে করছেন, মাহির সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। মাহি’র ব্যাপারে বিএনপি প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে।

৪. ড. কামালের রহস্যময় ভূমিকা: ড. কামালকেই বৃহত্তর ঐক্যের নেতা মনে করা হয়। কিন্তু ড. কামালের আচরণ ‘রাজনৈতিক নয়’ এমনটাই মনে করেন যুক্তফ্রন্টের অনেক নেতা। তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন, কাউকে না বলে। এমনকি, গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠক ডেকে বাতিল করেছেন কাউকে না বলে। তাঁর এ সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘একনায়কতান্ত্রিক’ বলছে।

৫. নির্বাচন না আন্দোলন: এই প্রশ্নটিও বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টায় মীমাংসিত নয়। ঐক্যের অনেকেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চায়। অনেকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার হটাতে চায়। ঐক্য প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত রূপ নিতে না পারার এটিও একটি বড় কারণ।

৬. আসন ভাগাভাগি: আসন ভাগাভাগি ঐক্য প্রক্রিয়ার অনৈক্যের একটি বড় কারণ। যুক্তফ্রন্ট বিএনপিকে ১৫০টি আসন ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচনে জিতলে দু’বছর যুক্তফ্রন্ট দেশ চালাবে, এমন প্রস্তাবও দিয়েছে। যা বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

৭. বিএনপিতে মতবিরোধ: ঐক্যের প্রধান ভরসা বিএনপিই। তাদেরই নিজস্ব সমর্থক, কর্মী এবং ভোট ব্যাংক রয়েছে। কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস এরা কেউই বৃহত্তর ঐক্যের পক্ষে নন। এই সব শর্ত এবং মতবিরোধ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর ঐক্য হয় কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।-বাংলা ইনসাইডার

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*