ব্রেকিং:এবার বেরিয়ে আসলো গোপন রহস্য ,সিনহার পেছনে আসলে করা কলকাঠি নাড়ছেন ?

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি। এই ধরনের পদ থেকে যারা অবসরে যান, তারা সাধারণত আড়াল-জীবন বেছে নেন। তিনি দেশে নেই বটে। তবে আলোচনায় থাকছেন। বিতর্কের ঝড় তুলছেন। তবে কি তিনি এখন সমাজকর্মী? অ্যাক্টিভিস্ট? না ঠিক জুতসই হচ্ছে না। তার ভূমিকা অনেকটা রাজনীতিবিদদের মতো। নিজ দলের বিপরীত রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে যা যা করা হয়, ঠিক সেই সূত্র মেনেই যেন সিনহা সাহেব কাজ করে যাচ্ছেন।

তাতে এটাই দৃশ্যমান সরকার তো বটেই সরকারি দলও তার তির-ধনুর লক্ষ্যবস্তু। তাই তো আওয়ামী লীগের বিরোধীরা বাহবাই দিয়ে যাচ্ছেন তাকে। রাজপথের বিরোধীদের কণ্ঠধ্বনির সঙ্গে সিনহা কথার মিল কি শুধুই কাকতাল মাত্র? প্রধান বিচারপতির আসনে যখন, তার শেষ ধাপে এসেই তিনি যেন আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের পিছু নিলেন।

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে প্রায়ই সরকারে আসার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে খালেদা জিয়ার অনুসারীরা। এর জন্য দফায় দফায় রাজপথে নেমেও ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। কাজে না এলেও বক্তব্য-বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের সেই তেজী ভাব বজায় আছে ঠিকই। আবার তকদির ফেরাতে দেশে-বিদেশেও প্রকাশ্য তদবির করেই যাচ্ছে তারা।

সম্প্রতি ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিনহা যা যা বলেছেন তার অনেক কিছুই বিএনপির কর্মের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া যায় সহজেই। কেননা সিনহা সেখানে জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন না দেয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করেছেন। বলেছেন, যদি ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়, তাহলে ‘দে উইল লুজ বাংলাদেশ’।

তিনি এমনও বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, হিন্দুদের মন্দির ভেঙে দেয়া হচ্ছে। অথচ এই বাংলার ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ নয়, অন্যরা ক্ষমতায় এলেই সনাতন সম্প্রদায় বেশি নিপীড়িত হয়। তাদের অপরাধ তারা নাকি বঙ্গবন্ধু-ভক্ত, নৌকায় ভোট দেন। সিনহা সাহেব সেখানে উল্টোস্রোতে পাল তুলতে চাইছেন- এতে আসলে কাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? কাদের সুবিধা হবে?

লেখালেখিতেও ইন্ধনদাতা! সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সম্প্রতি আলোচনায় আসেন ইংরেজি ভাষায় একটি বই লিখে। ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে আত্মজীবনীমূলক এই গ্রন্থে তিনি দাবি করেছেন, ‘২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।’ এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে, ‘অন্তর্জ্বালা’ থেকে তিনি মনগড়া কথা বলছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বই নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা একটু খুঁজে বের করেন না, বইটা লেখার পেছনে কার হাত আছে? এই বইটার পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে গেছে? কার কাছে গেছে বা তিনি যে লঞ্চটা করবেন; এই লঞ্চিংয়ের টাকা-পয়সা খরচটা কে দিচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কেউ দিচ্ছে কিনা বা আপনাদের মতো কোনো সাংবাদিকরা এর পেছনে আছে কিনা? কোনো সংবাদপত্র আছে কি না বা তারা কতটুকু সাহায্যপত্র দিচ্ছে? আমাদের কোনো আইনজীবী এর স্ক্রিপ্ট দেখে দিচ্ছে কিনা? কোন পত্রিকা বা পত্রিকার মালিকরা তাকে এই মদদটা দিচ্ছে? স্ক্রিপ্টটা লেখার ব্যাপারে কোনো সাংবাদিক, কোন পত্রিকার, কে এটা সাহায্য করছে?’

এই প্রশ্নগুলো করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুঁজে একটু বের করেন। আমি জানি, আমি তো বলব না আপনাদের। আপনারা খুঁজে বের করেন; সেটা চাই।’তবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিবিসির এক প্রশ্নে দাবি করেছেন, বইটি তিনি নিজে লিখে নিজের উদ্যোগে প্রকাশ করেছেন, অন্য কারো এতে কোনো ইন্ধন নেই।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই যুদ্ধাপরাধের একটি মামলার শুনানিতে একাত্তরে নিজের শান্তি কমিটির সদস্য থাকার কথা তুলে ধরে আলোচনায় আসেন বিচারপতি সিনহা; তবে তিনি বলেছিলেন, শান্তি কমিটির সদস্যের ছদ্মাবরণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন তিনি।

তারপর প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়ে বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ নানা সময় তুলে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন নিয়ে তার সঙ্গে সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ হয় আলোচিত। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলে বিচারপতি সিনহার। তার শেষ বিতর্কের শুরু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে, যা প্রথমে ছুটি এবং শেষে পদত্যাগে গিয়ে শেষ হলো। এক হাজারের বেশি দিন দায়িত্ব পালনের পর মেয়াদ শেষের তিন মাস আগে বিদায় নেন তিনি।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায় প্রকাশের পর থেকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় ছিলেন বিচারপতি সিনহা। পরের মাসে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তাতে বিচারপতি সিনহার ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ দেখে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকও বলেন, এই রায় ‘ভ্রমাত্মক’।

ওই পর্যবেক্ষণে সংসদ ও সরকার এবং জাতির জনককে খাটো করা হয়েছে অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবি তোলে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। তবে বিএনপি প্রধান বিচারপতির পক্ষেই দাঁড়িয়েছিল। সংসদে আলোচনা এবং তীব্র আক্রমণের প্রেক্ষাপটে খবর আসে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার।

সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টোবর তিনি রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে বিদেশে চলে যান। বিচারপতি সিনহা বলে যান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’। এখন দেখার বিষয় সামনের দিনে ভারত কি আওয়ামীলীগ কে সমর্থন করবে নাকি এস.কে সিনহার পক্ষে সমর্থন করবে তা সময় বলে দিবে!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*