সিনহার মুখ এখন ‘রেসের ঘোড়া’। এতদিন কোথায় ছিলেন?

শনির পেটে পুরোপুরি হজম হওয়ার আগেই জুডিশিয়ারি লীগের সদস্য সিনহা মুক্তি পেলেও জিয়া পরিবারকে পুরোপুরি হজম না করে ছাড়া হবে না। ‘ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ের সারমর্ম এটাই। ‘জিয়া’ নামটাই এখন জিন্দা লাশ।

তারেকের ‘দুর্নীতি’ এবং খালেদার ‘এতিমের টাকা আত্মসাৎ’ই কারণ হলে মুক্ত ব্যাংক ডাকাতদের হিসাব মিলছে না। প্রজ্ঞাপনে ‘অবৈতনিক’ ঘোষণা করে উপদেষ্টার মাসিক দেড় কোটি টাকা নেয়ার প্রমাণ দিলো এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ।

রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগকেই ব্লাকমেইলিং করে যেভাবে অবৈধ ক্ষমতা দখলে রাখা হয়েছে- সিনহা সেই বার্তাই দিলেন। বইটি নিয়ে উত্তাল বাংলা ভাষাভাষীরা।

মাঝি বিভ্রান্ত হলে, নৌকা ডুবে যায়। হাতি গর্তের ভেতরে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে, তবে পিঁপড়াও যে লাথি মারে- রাজনীতিতে কৌশলী না হওয়ার বিকল্প নেই। শুধু ফখরুলের আমলেই দেখলাম, লাখ লাখ ভোট যে দলের, উল্টা ওয়ানম্যান শোর দলগুলোই বিএনপিকে শর্ত দিলো!

২.টার্গেট- জিয়া পরিবারের দুই কর্ণধারকে ‘ফিনিশ’ করা। একজন কারাগারে মৃতপ্রায়। অন্যজনকে রায়ের আগেই ফেরত আনতে অদম্য হাইকমান্ড। বন্দিবিনিময় চুক্তির লবিতে লন্ডনে দুই দিন।

মিশন সাকসেসফুল হলে ২০৪১ পর্যন্ত কণ্টকমুক্ত। তাদের একমাত্র কাঁটা- তারেক।ব্যক্তি তারেককে চিনি না। ‘এক-এগারো’র নাটক দিয়ে জন্ম দেয়া আসামি তারেকের মামলার পাহাড় দেখেছি।

অনুপস্থিতিতে গুজবের বোমা বিস্ফোরণ দেখেছি। নিরপেক্ষ আদালত ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। আমি যে দেশে প্রবাসী, সেখানে এমনকি প্রেসিডেন্টেরও ক্ষমতা নেই, যা সিনহাকে দিয়ে আদায় করেছেন হাইকমান্ড। সিনহা না থাকলেও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার মতো লোকের অভাব নেই। এক মন্ত্রীর ঘোষণা, রায় নিয়ে নাশকতা হলে কঠোর হাতে দমন করবে।

তিনি কিভাবে অগ্রিম জানেন? নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ২০১০ সালের ‘ঠিকানা’ পত্রিকার লিড নিউজ, তারেকের বিরুদ্ধে সাক্ষী সংগ্রহে দেশে দেশে টেন্ডার। ১০ বছর ধরেই প্রতিহিংসার সন্দেহাতীত প্রমাণ এগুলো। গ্রেনেড হামলার আসামিরা অন্য কোথাও।

‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে পা দিয়ে লাথি মেরেছেন। মিলিটারি সেক্রেটারি পাঠিয়ে পদদলিত করেছেন।’ -নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিনহা। আরো বলেছেন, কিভাবে কায়দা করে জামায়াত নেতাদেরকে ফাঁসি দিতেন।

সিনহার মুখ এখন ‘রেসের ঘোড়া’। এতদিন কোথায় ছিলেন? এরাই আদালত চালিয়েছেন? তারপরেও ফখরুলদের নিরপেক্ষ রাজনীতির মানে হয় না।

৩.‘হাওয়া ভবন’ কতখানি সত্য, কতখানি গুজব? বাস্তববাদী আমার পর্যালোচনা ভিন্ন। আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অত্যন্ত সজাগ। সকালের আকাশ দেখলেই বুঝতে পারি, বেলা ২টায় পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে।

সেই হিসেবেই প্রশ্ন, হাওয়া ভবনে বন্ধুদের সংখ্যা এবং প্রত্যেকের পরিচয় নিয়ে। দুর্নীতি হলে, সব টাকা একাই খেয়েছেন? তরুণ তারেক ওদের অ্যাক্টিভিটিজ জানতেন? খালেদা কখনো প্রধানমন্ত্রী, কখনো বিরোধী দলে।

১৯৯১ সালে তারেকের বয়স ২৪। একজন প্রধানমন্ত্রীর বড় পুত্রসন্তান হওয়া মুখের কথা নয়। ঘিরে থাকত হাজার হাজার সুবিধাবাদী বন্ধু। তারেক তখন দুর্লভ ব্যক্তিত্ব। তাকে ক্যাশ করে অনেকেই মাল্টিমিলিয়নিয়ার। তারেক নির্বাসনে, ওরা সততার জ্ঞান বিলাচ্ছে!

ভুল না করলে সে মানুষ হয় কী করে? গরু-ছাগল কখনোই ভুল করে না। কারণ তারা মানুষ নয়। একজন তরুণ তারেক ফেরেশতা নন। যেমন নন তার মতো লাখ লাখ তরুণ-তরুণী।

গত ১০ বছরে হাওয়া ভবনের সংখ্যা এবং সাইজ নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। জরিপে প্রকাশ, বাংলাদেশের এক শ্রেণীর মানুষের ধনী হওয়ার সংখ্যা বিশ্বে এক নম্বরে। এগুলোই লীগের ‘খাওয়া ভবন’। রাজপুত্রের ক্রাইম এম্পায়ারের খবর সোস্যাল মিডিয়ায়। অতীতে এক মন্ত্রী একটিমাত্র প্রমাণ দিলেও, একটি মন্ত্রণালয় থেকে কত হাজার কোটি টাকা উড়ে গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া জানা অসম্ভব।

অবাক হয়ে দেখছি, বেস্ট ফ্রেন্ডদের তালিকায় যিনি এক নম্বরে, তিনিই এখন তারেকের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় বোমা ফাটাচ্ছেন। যেন সুবুদ্ধি ছাড়া তারেককে কেউই কুবুদ্ধি দেয়নি। সততা নিয়ে মাহি বি. চৌধুরীর আস্ফালন, অ্যাপেনডিসাইটিসের মতোই বেদনাদায়ক। এদের মতো বন্ধু যার আছে, তার কোনো শত্র“র প্রয়োজন আছে?‘মানুষ পরিবেশ ও পরিস্থিতির শিকার।’ – মেরি ওলস্টোনক্রাফট ১৭৮৭ সাল।

৪.যুক্তফ্রন্ট কী? ২০০৫ সালে এরশাদ। ২০১৮ সালে যুক্তফ্রন্ট। সবাই চায়, জিয়া পরিবার এবং বিএনপিকে ধ্বংস করে ক্ষমতায় যেতে। কেউই চায় না, ওদের সাথে নিয়ে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরতে। অথচ বেশির ভাগের মধ্যে ব্যানার ধরার মতো সদস্যও নেই। ভোট হলে প্রত্যেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

ফখরুলকে বলছি, নির্বাচনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প এলেও তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। কারণ ওদের পেছনে ‘র’ এবং পুতিন। সুতরাং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতরানোর চিন্তা বাদ। নির্বাচনে যাওয়া মানেই হেরে গিয়ে তাদেরকে বৈধ করা। বরং ৫ জানুয়ারির অবস্থান নিন। যেন ওরা পৃথিবীর চোখে ক্ষমতা দখলদার হয়েই থাকে।

মহাসচিব তার দায়িত্ব পালন করলে, তিনিই শর্ত দেবেন যুক্তফ্রন্টকে। কারণ, বিএনপি জোটের রয়েছে লাখ লাখ ভোটার। নিরপেক্ষ ভোট হলে ধুলায় উড়ে যাবে মহাজোট। যে কারণে তারেক ও খালেদাকে শেষ করতে ডেসপারেট। সিনহার বইয়ে পরিষ্কার, হর্সট্রেডিং এবং ব্লাকমেইলিং করেই অবৈধ ক্ষমতায় টিকে আছে। আরো লিখেছেন, এক্সিকিউটিভ-লেজিসটেটিভ-জুডিশিয়ারি… প্রতিটি বিভাগকেই নিয়ন্ত্রণ করছে হাইকমান্ড। এসব তথ্য একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির। যিনি ঘরের খবর জানেন। এখন ‘ঘরের শত্র“ বিভীষণ’। তৈলাক্ত সাংবাদিক রূপার ম্যাজিক্যাল লেডি উপাধির সঙ্গে একমত। ক্যু করার ম্যাজিকের নাম এটি।

‘ক্ষমতায় রাখতে না পারলে এক দিনে এক লাখ মানুষ মারা যাবে!’- তোফায়েল। এটাই কি ২০ দলের জনপ্রিয়তার শ্বেতপত্র নয়? সুতরাং জনগণ বাদে কারো সাথেই আঁতাত নয়। এমন নিরপেক্ষ-নিষ্ক্রিয় দায়িত্বশীল জীবনে প্রথম দেখলাম। নেত্রী জেলে মৃতপ্রায়, ২১ আগস্টের মামলার রায় যখন পূর্বনির্ধারিত… জেনেও আবেদন-নিবেদন-সম্ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ তাদের রাজনীতি।
কত জিতবে? জিততে দিন। জিততে জিততে একদিন ক্লান্ত হয়ে যাবে। মানুষও তখন রাস্তায় নামবে, যেমনটি নেমেছিল। বরং ফিরোজা ও পল্টনের তরফ থেকে গণভবনকে এক বাক্স গোলাপ পাঠিয়ে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে দিন। মানুষ বোকা নয়। যেদিন বলা হলো, ‘খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের সাথে জড়িত’, সেদিনই যা বোঝার, বুঝে নিয়েছি। ফখরুলকে বলব, সিনহার বইটি নিয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের মিটিং এবং প্রেসকনফারেন্স করুন। মানুষ জাগানোর তাগিদ দিন।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেও কিছুক্ষণ পরেই উদোম হয়ে যায় মাছ। যারা খালেদাকে ১৫ আগস্টের জন্য দায়ী করেন, তাদেরকে বলুন- আজকের একজন নেতা কেন লাশ দাফনের বদলে সেদিন মার্কিন অ্যাম্বেসিতে লুকিয়ে ছিলেন? ব্যবস্থা নেয়ার বদলে মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ কেন পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন? এইচ টি ইমাম কেন মোশতাক সরকারকে শপথ পড়ালেন? তোফায়েল কেন রক্ষীবাহিনী পাঠালেন না? জাসদ, গণবাহিনী তখন মুজিবের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তারপরও তাদের পার্লামেন্টে রেখে বিদেশে কেন কালপ্রিট খোঁজাখুঁজি? ‘চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানো’র দাবি করেও কেন নিরাপদ নিশ্চিন্ত? ১৬ আগস্টের উপসম্পাদকীয়তে কী লিখেছিল ইত্তেফাক? পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তিদের পার্লামেন্টে বসিয়ে ১৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি কে? (১৫ আগস্ট নিয়ে একজন শেখ এবং সেনাপ্রধানের হুমকিধমকি নেটে।)

৫.কারাগারে একজন বন্দীর সবধরনের মানবাধিকার ভঙ্গের রেকর্ড সৃষ্টি হলো। পছন্দমতো চিকিৎসা দিতে কেন অস্বীকৃতি? জোরজবরদস্তি চিকিৎসা করানো হচ্ছে, যা মেডিক্যাল এথিকসের শতভাগ পরিপন্থী। কোনো রোগীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসা করা নিষিদ্ধ। পছন্দের হাসপাতালে কিছুতেই যেতে না দিয়ে, তিলে তিলে কি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে না? প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বয়স, বার্ধক্য, শোক, মানসিক নির্যাতন…। কারাগারের ভয়ানক পরিবেশ, স্যাঁতসেঁতে মেঝে, ফাঙ্গাসে ভরা দেয়াল… মানবাধিকার ভঙ্গের রেকর্ড। মনে হয় যেন, কিম জং উনের গুলাক।

ম্যাডাম নির্বাচনে থাকলে, কাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতো? আমরা চাই না, নির্বাচন নিয়ে একজন মানুষও মারা যাক। আর সেকারণেই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিন। যারা সন্ত্রাসের বলে ক্ষমতা দখলে রাখার মতো অগণতান্ত্রিক, এদের মোকাবেলার শক্তি বিএনপির না থাকাই উচিত।
আগেও লিখেছি, ’৯৬-এর আওয়ামী লীগ আর এই আওয়ামী লীগ ভিন্ন। যেদিন দিল্লিতে গিয়ে এই মানচিত্রটাকে ফ্রি-লাঞ্চ হিসেবে উপহার দেয়া হলো, সাথে দায়মুক্তির মুচলেকা… যেদিন পুতিনের সাথে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেক… যেদিন ’৭১-এর বিরোধী শক্তি চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলার মাটিতে পা রাখলেন… নির্বাচনের শ্রাদ্ধ শেষ।

৬.আওয়ামী লীগ, এরশাদ, বি. চৌধুরী- তিনটি দলই বিএনপিকে মুছে ফেলতে মরিয়া। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই জনাব চৌধুরী দলটির সাথে থাকলেও ভেতরে ভেতরে নাকি অন্য কিছু কাজ করত। মন্ত্রী হয়েছেন। সহৃদয় ম্যাডাম রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছাও পূর্ণ করেছেন। যে মুহূর্তে ম্যাডাম জানলেন, ‘সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র’ করছেন, সাথে সাথে বঙ্গভবন থেকে আউট। পার্লামেন্টে ইমপিচ হবেন শুনেই রিজাইন! সুতরাং জিয়ার মাজারে না যাওয়া নিয়ে যে গল্পটি শোনায় আওয়ামী লীগ, পুরাই ফাউল। ম্যাডাম জেলে, তারেক নির্বাসনে- এটাই যুক্তফ্রন্টের মাহেন্দ্রক্ষণ। এরশাদের মতোই বিএনপির শূন্য জায়গা দখলে মরিয়া।

বিএনপির কাছে ১৫০টি সিট দাবি যুক্তফ্রন্টের। স্বাধীনতা-বিরোধীদের সাথে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রাখলে ঐক্যজোটে নিষিদ্ধ। বি. চৌধুরী খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘জামায়াতকে বাদ দিয়ে জোটে আসতে হবে।’ তাদের সাথে একমঞ্চে বিএনপির কয়েকজন। দল ভাঙার কারিগরেরা কি দলের ভেতরেই?

চৌধুরী সাহেবদের বক্তব্য থেকে একটি সিদ্ধান্তে এসেছি। ১৫০টি সিট ঝুঁকিপূর্ণ করে পার্লামেন্টে যাওয়ার বন্দোবস্ত। মিলিয়ে নিন হাইকমান্ডের বক্তব্যের সাথে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে, ধর্মীয় এবং বাম দলগুলোকে নিয়ে মহাজোট আরো সম্প্রসারিত করে, তাদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে। আর বিএনপির একাংশ এলে, তাদের সাথে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে এবং সেভাবেই সবাই নির্বাচনে যাবে।
সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে মাহীর দাবি, ভোট না থাকলে সমস্যা নেই। জামায়াতের ভোট ৫ শতাংশ। আমার টার্গেট ২২ শতাংশ ফ্লিপফ্লপ ভোটার। প্রবাদই সত্য। ‘আকাশে হাঁড়ি, মাটিতে চুলা।’

৭.এবার স্বাধীনতাবিরোধী শব্দটির ওপর পিএইচডি করেই ছাড়ব। ’৭১-এ রাজাকারদের বেতন ছিল মাসে ১৫০ টাকা। কিন্তু যারা মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা ভাতা নিত, তারা কী? রাজনীতিতে ‘হটকেক’ হতে চাইলে প্রথমে যা বলতে হবে, ‘স্বাধীনতা-বিরোধীদের সাথে কোনো আপস নয়।

বিএনপির অন্যতম বেনিফিশিয়ারি চৌধুরী পরিবার। বিকল্পধারা খোলার এত বছর পরেও ওয়ানম্যান শো। প্রশ্ন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কি ১৯৯১ কিংবা ২০০০ সালে হয়েছে? ডাক্তারি বুদ্ধির হিসাব মিলছে না। কথিত আছে, যুক্তফ্রন্টের মহাসচিব ছিলেন ‘স্বাধীনতাবিরোধী’। শমসের মোবিন চৌধুরীর শরীরে গুলি করেছিলেন পাক আর্মির কোন মেজর?

বি. চৌধুরী আসলেই জামায়াতবিরোধী হলে ১৯৭৯ সালেই রিজাইন দিতেন। ডাক্তার সাহেব জানেন, হাইকোর্টে গেলেও, হারান সতীত্ব কেন ফেরত দিতে পারেন না বিচারক!

৮.বারো বছর দেখলাম। কিন্তু ’৯১, ’৯৬-এর পার্লামেন্টের বিকল্প নেই। রাজনীতিতে তখন বিতর্ক থাকলেও, দানব ছিল না। আমরা সে সময়ে ফেরত যেতে চাই। আমরা ’৯০ এবং ’৯৬-এর আওয়ামী লীগকে ফেরত চাই।

প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতেই হবে। এক পরিবারের ঠিকানা বিশেষ ভবন, অন্য পরিবার ফেরারি। এই কালচার আর চলতে দেয়া যায় না। ২১ আগস্ট হামলার প্রকৃত আসামিরা অদৃশ্য। যতই বলুক, তারেককে ঠেলে দেবে না ব্রিটেন। আমার বিশ্বাস, শত্র“-মিত্র চেনা শেষ হয়েছে। হয়তো পিতার আদর্শ উপলব্ধি করেছেন। তাই পরিবর্তিত তারেক ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবেন। লীগ আরো কিছু দিন ক্ষমতা দখলে রাখলে দেশের কী হাল হবে? সিনহার বই একটি জ্বলন্ত আদালত।

যারা এ সত্য বুঝেন না তাদের উচিত, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। কারণ বিএনপির আর হারানোর কিছু নেই। ই-মেইল :farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*