যে কারণে মাঠে মাশরাফিকে ৩০ বারেরও বেশি সাবধান করেছিল আম্পায়ার

পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ের দিনে অধিনায়ক মাশরাফির কোন অবদান থাকবে না তা কি হয়। তিনি কোন উইকেট নেননি। কিন্তু ‘সুপারম্যানের’ মতো এক ক্যাচ ধরেছেন।

পাকিস্তান ইনিংসের ২১তম ওভারের প্রথম বল। ব্যাটে আছেন শোয়েব মালিক এবং ইমাম উল। দু’জনে করে ফেলেছেন ৬৭ রানের জুটি। এমন সময় মিডউইকেটের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গেলেন মালিক। তিনি কি আর জানেন ওখানে মাশরাফি আছেন! বাংলাদেশ অধিনায়কের থেকে একটু দূর দিয়েই শটটা খেললেন মালিক। কিন্তু চিলের মতো ছো দিয়ে এক হাতে মালিকের শটটা মুঠোবন্দী করলেন মাশরাফি।

এরপর এক হাতে বল উচিয়ে ধরলেন তিনি। ফ্লোরোন্স নাইটেঙ্গেলের আলোকবর্তিকা উচিয়ে ধরার মতো; দল এবং সমর্থকদের আশার আলো দিলেন ম্যাশ। তিনি ক্যাচটা তালুবন্দী করতে ডাইভ দিয়েছেন ২.৩৫ মিটার। যা প্রায় আট ফুট! লাফিয়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ-হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যথাও পেয়েছেন।

এদিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তেমন একটা নো বল করতে দেখা যায় না। কিন্তু এবার এশিয়া কাপে চার ম্যাচের দুটি নো বল দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুধু তাই নয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানের আগের ম্যাচে মাশরাফিকে ৩০ বারের বেশি সাবধান করেছে আম্পায়াররা।

প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আফগানিস্তান ম্যাচেও ইনজুরিতে পড়ার আশঙ্কা ছিল আমার। একটা সময় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম খারাপ কিছু হতে পারে। মাঝে ড্রিংকসের সময় দুই ওভার করে বাইরে গিয়ে এনার্জি ড্রিংকস খেয়েছি।

কিন্তু কাজ হচ্ছিল না। আসলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ঘাম রিকভার হচ্ছিল না। সেই ম্যাচে আম্পায়াররা অন্তত ৩০ বার আমাকে সাবধান করে বলেছেন, ‘ভেরি ক্লোজ টু নো বল!’ তারা আমাকে সাবধান করার পর মাথায় শুধু ‘নো বল’ ‘নো বল’ ঘুরেছে। বোলিংয়ের সময় ভাবতে হয়েছে যেন ‘নো বল’ না হয়। এভাবে বোলিং করা খুব কঠিন”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*