জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে যে বক্তব্য দিলেন বি. চৌধুরী

দেশে পরিবর্তন আনতে হলে আগে বিএনপির ‘প্রত্যেক নেতাকর্মীকে’ জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আজ গণতন্ত্র নেই। দেশভর্তি দুর্নীতি ও সন্ত্রাস। দেশে পরিবর্তন আনতে হলে আগে আপনাদের (বিএনপি) একেকজনকে জিয়ার আদর্শের মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। তবেই মুক্তি আসবে।

“স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমি জাতীয়তাবাদী শক্তির পুনরুত্থান চাই। মিলিত শক্তির সঙ্গে আমি থাকব- এই অঙ্গীকার করছি।”রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, যাকে ২০০২ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

পরে ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন বদরুদ্দোজা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে না থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়ে আসছে তার দল।

সভায় অতিথিদের সারিতে বসে বক্তব্য শোনেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার পাশে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, আহমেদ আজম খান, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ২০ দলীয় জোটের আবদুল লতিফ নেজামী, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, আহসান হাবিব লিংকন, আজহারুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাঈদ আহমেদ ও গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া।

তিন তারকা জেনারেল হিসেবে সেনাবাহিনী ছেড়ে আসা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তার তত্ত্বাবধানেই বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় দলের মহাসচিব ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

৮৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন জাতীয়তাবাদের প্রাণ। আমি তার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে এসেছি। দলটির প্রথম মহাসচিবও হয়েছি। জিয়া নিজের দেশপ্রেম ও সততার উপর ভর করে মানুষের ভেতরে চলে গিয়েছিলেন। মানুষের ভালোবাসা ম্যাজিক দিয়ে জয় করতে জানতেন তিনি।

“প্রেসিডেন্ট জিয়া সব সময় আমাদের বলতেন, রাজনীতি করতে হলে হৃদয় বড় হতে হবে। পুঁটি মাছের হৃদয় নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।বদরুদ্দোজা বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়া। তিনি বলতেন, ‘আল্লাহ যদি আমাকে ১০ বছর বাঁচিয়ে রাখেন, বাংলাদেশ স্বপ্নের দেশ হবে। এরপর যেই আসুক, আমার চিন্তা থাকবে না।

জাতীয় সংসদের প্রেসিডেন্ট স্যুট থেকে একদিন সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করে জিয়াউর রহমান কী পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিলেন, তাও অনুষ্ঠানে বলেন আজকের বিকল্প ধারার সভাপতি।“উপর থেকে সংসদের কার্যক্রম দেখে একদিন প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন, যেভাবে সংসদ নেতা (শাহ আজিজুর রহমান) জবাব দিচ্ছেন, এটা ভালো হয়নি। শাহ আজিজুর রহমান সাহেব কৌশলে জবাব দিতেন, যা প্রেসিডেন্টের পছন্দসই হত না।

একদিন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি নির্বাচন করতে চাই। দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। আমি সংসদীয় গণতন্ত্র চাই।বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বদরুদ্দোজা বলেন, “আমার বয়স এখন ৮৪ বছর। হয়ত এখানে এটিই আমার শেষ বক্তব্য। আমি বলতে চাই, ভুল হয়ে থাকলে আমি দুঃখ পাব। আর আপনারা (বিএনপি) ভুল করলে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না, ক্ষমা করবে না।

“আমি এখন বিএনপিতে নেই। আমার একটি ছোট রাজনৈতিক দল আছে। আমরা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে বিশ্বাস করি না। জিয়ার জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী আমরা। যতদিন বেঁচে থাকি জিয়ার দর্শনের সঙ্গে থাকব আমি।জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘জিয়ার মনোভাবও’ আসে বদরুদ্দোজার কথায়।

জিয়া কখনোই শেখ মুজিবের নাম ধরে খারাপ কথা বলতেন না। নেভার। তিনি (জিয়া) সবসময় নিজেদের নিয়ে কথা বলতেন। উনি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতেন না।“তবে বাকশালীদের তিনি সমালোচনা করতেন। ব্যক্তির সমালোচনা জিয়ার কাছে কখনো প্রশ্রয় পায়নি। আর এখন আমরা কী দেখি জাতীয় সংসদে? জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিশ্রী ভাষায় কথা বলা হয়। এখন যা হচ্ছে, তা ডার্টি পলিটিক্স।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, “আজ দেশে গণতন্ত্র নাই বললেই চলে। রাজনীতি শূন্য হয়ে গেছে। এখন আমাদের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।এই গণতন্ত্র ফিরে না এলে দেশে ফ্যাসিবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। বাংলাদেশ দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হবে। জিয়া যে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ম্লান হয়ে যাবে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহাজাহান ওমর, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বক্তব্য রাখেন।

জিয়াউর রহমানের কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিন্নাতুন নেসা তাহমিনা, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার।সভা পরিচালনা করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও সহ দপ্তর শামীমুর রহমান শামীম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*