শুধুমাত্র মাশরাফির চাওয়াতে এশিয়া কাপে ডাক পেলেন এই অবহেলিত টাইগার

আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপের ১৪ তম আসরের প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছেন তিন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও আবু হায়দার।

তাছাড়া সবার আগে এশিয়া কাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে দল থেকে বাদ পড়েছেন টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও এনামুল হক বিজয়।

ওপেনার হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছে লিটন কুমার এবং মোহাম্মদ মিঠুন। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা চাওয়াতেই দলে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। তরুণদের মধ্যে প্রথম বারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন অলরাউন্ডার আরিফুল হক।

তাছাড়া রয়েছেন নাজমুল হাসান শান্ত, নাজমুল অপু ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অপেশাদার আচরণের জন্য বেশকদিন ধরে সমালোচিত সাব্বির রহমান দল থেকে বাদ পড়েছেন।

বাংলাদেশ দল:মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মোমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি।

এই মুহুর্তে অন্যরা যা পরছেনমাঝে মধ্যে না রেগে পারি না: সাব্বিরঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলে নিকট অতীতে খবরের শিরোনাম হননি সাব্বির রহমান। পড়তি ফর্ম আর উঠতি অক্রিকেটীয় আচরণ। এটাই তার থেকে শেষ ক’মাস বেশি পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আর সেজন্য অভিষেকের পর জাতীয় দল থেকে প্রথমবারের মতো বাদ পড়েছেন সাব্বির।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পেয়েছেন ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা। ক্রিকেট বোর্ডের নজরদারিতে আছেন তিনি। তার জায়গা পূরণ করতে নতুন ক্রিকেটারের খোঁজ শুরু হয়ে গেছে। নতুন ভুল করলে বড় শাস্তি পেতে পারেন তিনি। তবে সাব্বির চান নিজেকে বদলে ফেলতে। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বলেছেন তিনি। তার বিশেষ দিক তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: নিষেধাজ্ঞার এই ছয় মাস কিভাবে কাটাবেন সাব্বির? সাব্বির: শুরুতে যেমন সাধারণ জীবনযাপন করতাম তেমন আবার শুরু করব। নিয়মিত অনুশীলন করব, ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করব। জিমে ঘাম ঝরাব। আমি যেহেতু এই সময়ে বিসিবির কোন সুবিধা নিতে পারব না। তাই মিরপুরে অনুশীলন, জিম করা হবে না। সেজন্য আমি মোহাম্মদপুরে ব্যাটিং অনুশীলন, জিম করব। আমার ম্যাচে দৌড়ানোয় একটু ঘাটতি আছে। সেখানে উন্নতি করতে কাজ করব।

প্রশ্ন: আপনি তো ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন। কোন লক্ষ্য স্থির করেছেন? সাব্বির: আমাদের জাতীয় ক্রিকেট লিগ এবং প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট সম্ভবত অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হবে। তার আগ পর্যন্ত আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের অনুশীলন চালিয়ে যাবো। কত রান করব তা বলা যায় না। তবে আমি যেমন পরিশ্রম করব তেমন ফল পাবো এটাই স্বাভাবিক। আমি রান করার চেষ্টা করব। এর আগে একবার লক্ষ্য নির্ধারণ করে আমি ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু এবার লিগে আমি উন্নতি করতে চাই।

প্রশ্ন: কি কি উন্নতি করতে চান। কয়টা জায়গায়? সাব্বির: আমি এখন আর লক্ষ্য র্নিধারণ করি না। আগে করতাম। যেমন-প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ বা কোন সিরিজে কত রান করতে চাই। কিন্তু ওভাবে আমি সফলতা পায় না। লক্ষ্য নির্ধারণ করলে আমার ওপর চাপ তৈরি হয়। গত শ্রীলংকা সফরে এ দলের হয়ে আমি চারদিনের ম্যাচে ভালো করেছি। সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে চাই। ওখান থেকে ভালো করার কিছু উপায় বের করতে চাই। এরপর সেভাবে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় রাগ কমানো দরকার। রাগের জন্য আপনি সম্প্রতি জটিলতার মধ্যে পড়েছেন? সাব্বির: রেগে যাওয়া আসলে এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কোন কারণ না। সম্ভবত আমি কথা মনের মধ্যে চেপে রাখতে পারি না। আর সেটা অনেকের অপছন্দ। অনেকে মনে করে আমার ইগো এটা। অথবা আমি নিজেকে খুব বড় মনে করি। আমাকে খুব রাগী ভাবে কেউ কেউ। রাগ অবশ্য ভালো না। তবে মাঝে মধ্যে আমি না রেগে পারি না। আমি রাগ কমানোর জন্য কাজ করছি। কেউ আমাকে অপমান করে কিছু বললেও আমি রাগবো না সেটাই এখন চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: এটার জন্য কারও বিরুদ্ধে আপনার কোন অভিযোগ আছে? সাব্বির: না, কারণ আমি কারও কোন ক্ষতি করিনি। সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তবে সত্যি হলো, ঝামেলায় পড়ার জন্য আমি আমার নিজের ওপর খুব রাগান্বিত। আমি একই ভুল আবার না করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

প্রশ্ন: আপনার মধ্যে যে প্রতিভা আছে, আপনি কি মনে করেন প্রত্যাশা মতো আপনি খেলতে পারেননি? সাব্বির: গত চার বছরে আমি ৫০টির মতো ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু স্থায়ী কোন ব্যাটিং পজিশন পায়নি। তিনে আমি বেশ কিছু রান করেছি। তবে একজন ব্যাটিং শুরুর দিকে ক্রিজে নেমে শেষ অবধি থাকলে তার রান করা উচিত। আমি বেশ কিছু হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি নিজে হাত ছাড়া করেছি। তবে আমি সবসময় দলের জন্য খেলেছি। শেষ দুই সিরিজে আমি শেষ দিকে ব্যাট করেছি। কোন ব্যাটসম্যানের থেকে আপনি শেষের ২০ বল থেকে ৪০-৫০ রান প্রত্যাশা করতে পারেননা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি উইকেট বিলিয়ে এসেছি। সেগুলো নিয়ে নিজে বসেছি। দলে সুযোগ পেলে আমি দলের হয়ে রান করতে চাই। আমি রান পাবার ব্যাপারে আশাবাদী।

প্রশ্ন: তেমন একটি সুযোগ আপনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মিস করেছেন? সাব্বির: হ্যাঁ, ওই ম্যাচে আমার সামনে সুযোগ ছিল। প্রত্যেক ম্যাচই আমাদের জন্য এক একটা সুযোগ। কেউ তো আর আউট হয়ে ফিরে আসতে চায়না। ভাগ্যক্রমে আমিও আউট হয়ে ফিরে এসেছি। প্রত্যেক দিন তো আমি সফল হবো না।

প্রশ্ন: আপনি টপ অর্ডারে ব্যাট করতে চান। দল আপনাকে সাতে ব্যাট করানোর কথা ভাবে। কিভাবে মানিয়ে নেন বিষয়টির সঙ্গে? সাব্বির: শেষে ব্যাট করা আমার জন্য খুব কঠিন না। কারণ আমি ব্যাট চালিয়ে খেলতে ভালোবাসি। ওভাবেই আমি চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারি। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা আমার আলাদা শক্তির জায়গা। দল আমাকে যেখানেই ব্যাট করাক আমি নিজের সেরাটা দিতে চাই।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, ভালো ব্যাটিং বানাতে গিয়ে আপনার অলরাউন্ডার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আপস করা হয়েছে? সাব্বির: প্রথমে আমি বোলার ছিলাম। ব্যাট করা ছিল বাড়তি সুযোগ। পরে পুরোপুরি ব্যাটিং হয়ে গেলাম। দলে অনেক বোলার ছিল। তাই আমি বল করতাম না। তবে এখনো আমি বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়। নেটে অনুশীলন করি। বোলিংয়ে উন্নতিও হয়েছে আমার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে পুরো দশ ওভার বল করেছিলাম আমি।

প্রশ্ন: এই কঠিন সময়ে আপনি কিভাবে আপনাকে স্বাভাবিক রাখছেন? সাব্বির: আমার বাবা-মা এবং পরিবার এখন আমার পাশে আছেন। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। newsatbd

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*