খালেদার আমলে নিজের উপর অত্যাচার নিয়ে কান্না কন্ঠে যা বললেন এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে আর কোন নির্বাচন সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি এখন শক্তি অর্জন করেছে, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করবে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে খালেদা জিয়াকে আমি বাড়ি দিয়েছিলাম, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়েছিলাম। আর খালেদা জিয়া আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর তিনি কেদে দিয়ে বলেন, আমাকে বিনাবিচারে টানা ৬ বছর জেলে রেখেছেন, অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। জেলখানায় চিকিৎসা দেয়া হয়নি, ঈদের নামাজ পর্যন্ত পড়তে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি এবং জাতীয় পার্টি। ভাগ্যের পরিহাস খালেদা জিয়াই এখন সেই কারাগারে আছেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসন রাজধানীর অভিজাত এলাকা, এখনকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে সাধারণ মানুষ আমাকে প্রায় দেড় লাখ ভোট বেশি দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। আবারো নির্বাচন করবো, দেশের মানুষকে গুম, খুন থেকে মুক্তি দেবো। তিনি বলেন, খবরের পাতা খুললেই শুধু হত্যা আর রক্তের খবর। সড়কে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কারো যেনো কিছু যায় আসে না। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরাই দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারবো। আমরা নির্বাচনে জিতে দেশে সুশাসন দেবো।

এরশাদ বলেন, আমরা মানুষ খুন করিনি, আমাদের হাতে রক্তের দাগ নেই। তাই আল্ল¬াহর রহমত আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় এখনো বেঁচে আছি। জাতীয় পার্টি এখন শক্তিশালী দল, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পুরোপুর প্রস্তুত।

জাতীয় পার্টির শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ১০ হাজার মাইল পাকা রাস্তা করেছি, উন্নয়নের জন্য এলজিআরডি গঠন করেছি, ৪৬০টি উপজেলা করেছি, ২১ জেলা থেকে ৬৪টি জেলায় উন্নীত করেছি। আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আর কোনো সরকার তা করতে পারেনি। আমরা ছাড়া কেউ এ দেশে সুশাসন দিতে পারেনি। আবারো মানুষের সামনে এসেছি, আমরা বিজয়ী হয়ে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের হাতে শুরু হওয়া ফ্লাইওভার, উপজেলা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন-কর্মকান্ড খালেদা জিয়া বন্ধ করে দেশের অনেক ক্ষতি করেছিলেন। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, জাতীয় পার্টিও সংগঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ মুক্তি চায়, আমরা নির্বাচনে জিতে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবো- ইনশাআল্লাহ।

এরশাদ বলেন, আমি তিনটি আসনে নির্বাচন করবো। এরমধ্যে ঢাকা-১৭ এবং রংপুর সদর নিশ্চিত করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত জনতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করতে সমর্থন জানায়।

এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের ২/১টি আসন বাদ দিয়ে, যেখানে নির্বাচন করবেন, সেখানেই বিজয়ী হবেন। তাঁর উন্নয়ন, সুশাসন, কল্যানময় কর্মসূচি মানুষ এখনো ভোলেননি। প্রমান হয়েছে, এরশাদ দেশের অকৃত্রিম বন্ধু, এরশাদ ছাড়া দেশের মানুষকে কেউ শান্তি ও স্বস্তি দিতে পারেনি। মানুষ বিশ^াস করে, এরশাদই এদেশ থেকে খুন, গুম, দুর্নীতি আর দুঃশাসন চিরতরে বিদায় দিতে পারবে। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, এরশাদকে লাঙ্গলে ভোট দিলে তিনি সহিংস রাজনীতি বন্ধ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ উপহার দেবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*