এ কেমন মা! দুধের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে হত্যা!

জানা যায়, উপজেলার উত্তরজয়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ বাচ্চু (৩০) মিয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাথী আক্তারের (২০)। তাদের ঘরে সাবিহা আক্তার নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ও মো. সাইফ নামে দুই মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।ঢাকার দোহার উপজেলার মিয়াপাড়ায় দুধের টাকা জোগাড় করতে না পেরে দুই মাসের শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন মা। এ ঘটনায় আটক মা সাথী আক্তার পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। রোববার সন্ধার এ ঘটনায় সোমবার সকালে মা সাথী আক্তারকে আটক করে পুলিশ।দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।সন্তানের দুধের টাকা জোগাড় করতে না পেরে লবণ খাইয়ে মা তার সন্তান সাঈফকে হত্যা করেছেন বলে সাথী আক্তারের বরাত নিয়ে বলেন ওসি।রোববার সকালে সাথী আক্তার তার স্বামী বাচ্চুকে সাঈফের দুধ আনার জন্য বলে। বিকেল পাঁচটার দিকে স্বামী দুধ না নিয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর সন্তানের দুধের টাকা যোগানোর জন্য আশপাশের কয়েকজনের কাছে সাহায্য চায় সাথী। পরে সে চেষ্টাও ব্যর্থ হলে সন্ধার দিকে বাড়িতে গিয়ে রাগে ক্ষোভে দুই মাসের সন্তান সাঈফকে লবন খাওয়ায় সাথী আক্তার।

শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সাঈফের মার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। শিশুটির ফুফু ও দাদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু সাইফকে মৃত ঘোষণা করেন।দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হোসাইন মো. আল-আমিন জানান, শিশু সাইফের মুখে প্রচুর লবণ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই শিশুটি মারা গেছে। লবনের কারণে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যায় শিশুটি।শিশুর বাবা শেখ বাচ্চু বলেন, আমি রাজমিন্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাই। মাঝেমধ্যে আমার স্ত্রীর সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হত। সবশেষ শিশুর মা সাথী আক্তার সারাদিন দুধ না দিতে পারায় শিশুর আর্তনাদ চিৎকার সহ্য করতে না পারায় শিশুর মুখে লবণ পুড়ে দিয়ে হত্যা করেছে।ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী বলেন, অভাবের সংসারে সন্তানের দুধের টাকা যোগাতে না পেরে রাগে ক্ষোভে নিজের সন্তানকে লবন খাইয়ে হত্যা করেছে মা। জিজ্ঞাসাবাদে সাথী আক্তার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পুলিশের কাছে।

এ ঘটনায় সোমবার নিহত সাঈফের বাবা বাদী হয়ে মা সাথী আক্তারকে আসামি করে দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*