বাংলাদেশে যখন তখন ওয়েবসাইট বন্ধ, জবাবদিহিতা ছাড়াই

জাতীয়

ভারতের একটি সংবাদ ওয়েবসাইট ‘দ্য ওয়্যার’ যাতে বাংলাদেশের ভেতরে দেখা না যায়, সেজন্য সম্প্রতি সেটিকে ব্লক করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলি-যোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন বা বিটিআরসি।

এর আগে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ওয়েব সাইট বন্ধ করা হয়েছিল।

বিটিআরসি বলছে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট বন্ধ করার জন্য প্রায়ই পরামর্শ বা নির্দেশনা দেয়া হয়।

ইন্টারনেটের বিস্তারের সাথে সাথে নানা বিষয়ের ওয়েবসাইট এখন পাঠকদের সামনে আসছে।

ওয়েবসাইটের বিস্তার যেমন হচ্ছে, তেমনি এগুলো নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার নানা নজরদারীও বেড়েছে।

সম্প্রতি ‘দ্য ওয়্যার’ নামের সংবাদ-ভিত্তিক যে ভারতীয় ওয়েবসাইট বাংলাদেশের ভেতরে ব্লক করে দেয়ে হয়েছে, সেখানে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষক মোবাশ্বার হাসানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছিল।

সেটির কারণেই এ ওয়েবসাইটটি ব্লক করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলছেন না কর্মকর্তারা।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আপত্তির কারণেই সে ওয়েবসাইটটি ব্লক করা হয়েছে। এমন কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ।

কেন ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়ে সেটি নিয়ে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের দিক থেকে কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মইনুল হোসেন বলেন,ওয়েবসাইট বন্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কোন কারণ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন মনে করে না।

মি: হোসেন বলেন, ” ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার মতো দেশেও ওয়েবসাইট বন্ধ করার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাদের একটি নির্দিষ্ট গ্রাউন্ড দেখাতে হয়। কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোতে পলিটিকাল এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এটি করা হয়। অনেকটা জবরদস্তিমূলক ভাবে একাজ করা হয়। যারা ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান , তাদের জবাবদিহিতা থাকা উচিত জনগণের কাছে।”

গত বছরের আগস্ট মাসে বিটিআরসি সংবাদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইটসহ ৩৫টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছিল।।

নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসি’র তরফ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশের পরামর্শে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে।

কেন বন্ধ করা হয়েছিল সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানায়নি বিটিআরসি।

কিন্তু পরে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, জঙ্গি বিরোধী অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তিকর এবং উস্কানিমূলক খবর বা বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, পরামর্শটি এসেছে গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে থেকে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, তিনি বিভিন্ন সময় এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেছেন যে, ওয়েবসাইট বন্ধ করার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামতের উপর।

মি: খান বলেন, ” আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সংস্থার কাছে এ বিষয়টি নির্ভর করে। এখানে ভারসাম্য বজায় রাখার কোন বিষয় লক্ষ্য করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ সংস্থা এ নির্দেশনাগুলো দিয়ে থাকে।”

এখনো পর্যন্ত যাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কিংবা সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়েছে তাদের কেউ বিষয়টিকে আইনগত ভাবে মোকাবেলা করেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি।

সাধারণত কেউ যদি মনে করে তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাহলে সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *